শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

এখানে বিজ্ঞাপন বসবে — Layout থেকে এডিট করুন

কয়রায় পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের ফাঁদ: ৪৫ দিনের ব্যবহারকে এক মাস দেখিয়ে পকেট কাটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের


 কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি | কয়রার খবর

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় পল্লী বিদ্যুতের মনগড়া ও ভুতুড়ে বিল নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত ৩০ দিনের পরিমাপের পরিবর্তে প্রায় ৪৫ দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহারকে এক মাসের বিল হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া, লাইফলাইন গ্রাহকদের বেশি দরের ধাপে ঠেলে দেওয়া এবং ভূয়া ইস্যু তারিখ ব্যবহার করে বিল পরিশোধে মাত্র ৩-৪ দিন সময় দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কয়রা সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে।

কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের নিম্নআয়ের সাধারণ গ্রাহকরা যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন এবং বিল আসত ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে, এই মাসে হঠাৎ করেই তাদের ব্যবহারে দেখানো হয়েছে ১০৫ ইউনিট বা তারও বেশি। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত প্রথম ৫০ ইউনিট পর্যন্ত কম দামের 'লাইফলাইন' সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতেই পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫০ ইউনিট অতিক্রম করার ফলে গ্রাহকরা সরাসরি দ্বিতীয় ধাপে (৭৫ থেকে ২০০ ইউনিট) চলে যাচ্ছেন, যেখানে প্রতি ইউনিটের দর ধরা হচ্ছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে যাদের সচরাচর ৩০০ টাকা বিল আসার কথা, তাদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদেয় বিল।

শুধু অতিরিক্ত বিল তৈরি করেই ক্ষান্ত হয়নি বিদ্যুৎ অফিস, বিল বিতরণেও অবলম্বন করা হয়েছে চরম কৌশল। বিলে ইস্যুর তারিখ ২০ জুলাই ২০২৬ এবং পরিশোধের শেষ তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ করা থাকলেও গ্রাহকদের হাতে বিল পৌঁছানো হয়েছে ৪ আগস্ট সকালে। 

কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে আরও স্পষ্ট হয় যে, বিলগুলো সম্প্রতি তৈরি ও প্রস্তুত করে নিয়ে আসা হলেও অফিসে নিজেদের বিলম্ব ঢাকতে ব্যাকডেটিং করে পেছনের তারিখ বসানো হয়েছে। ফলে ১৫ দিন সময় পাওয়ার আইনি অধিকার থাকলেও সাধারণ মানুষ পরিশোধের জন্য সময় পাচ্ছেন মাত্র ৪ দিন। এই অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকগুণ বাড়তি টাকা যোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানার লিখিত হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা কয়রার খবর-কে বলেন, মে, জুন ও পূর্ববর্তী মাসগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকলেও জুলাই মাসে এসে এই চরম অনিয়মের শিকার হতে হচ্ছে। জলবায়ু দুর্যোগকবলিত ও নিম্নআয়ের এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পক্ষে হঠাৎ করে এই অংকের টাকা মেটানো সম্ভব নয়। পরিবার সামলাবে নাকি ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন প্রশাসনিক অনিয়ম ও ভুয়া হিসাব অবিলম্বে সংশোধন করে পুনরায় সঠিক বিল প্রস্তুত করা এবং বিলম্ব মাশুল ছাড়া পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন কয়রার সর্বস্তরের জনগণ।

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×