** শ্যামনগর প্রতিনিধি | কয়রার খবর **
কয়রা, ২৩ জুলাই: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের এমপি পদ বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে দলের একটি প্রতিনিধিদল স্পিকারের দপ্তর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কার্যালয়ে এ আবেদন পৌঁছে দেয়।
দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটেজ প্রকাশের পর দলীয় তদন্তে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে "নৈতিক স্খলন" ও পর্দা লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং একই সাথে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলে সাংবিধানিক ও আইনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২১ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭৫ বছর বয়সী ওই সংসদ সদস্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুলাই জামায়াত আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে দল থেকে বহিস্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কয়রার খবর-কে জানান, দল থেকে কাউকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায় না। সংসদ বা স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি রেফারেন্স পাওয়া গেলে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডিসপিউট (বিতর্ক) নিয়ে পর্যালোচনা ও শুনানির মাধ্যমে এ বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
