শিরোনাম ::
লোড হচ্ছে...

এখানে বিজ্ঞাপন বসবে — Layout থেকে এডিট করুন

কয়রার মঠবাড়িতে বাঁধ ও রাস্তার বেহাল দশা: কোটি টাকার বাজেটেও মেলেনি টেকসই সমাধান, তীব্র মানবিক বিপর্যয়


 তন্ময় শান্ত | কয়রা প্রতিনিধি | কয়রার খবর

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মঠবাড়ি গ্রামে আইলা-পরবর্তী দীর্ঘ ১৭ বছরেও টেকসই বেড়িবাঁধ ও যোগাযোগের রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। ২০০৯ সালের ২৫ মে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডবে সুন্দরবন সংলগ্ন এ অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় অতিক্রম হলেও আজও উপকূলীয় এ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।

কয়রার খবর -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মঠবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন নদী রক্ষা বাঁধ ও চলাচলের পথটি বর্তমানে সম্পূর্ণ কাদামুক্ত এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ইটের টুকরো ও কর্দমাক্ত চরের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারের পানি বাড়লেই রাস্তাটি পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন গর্ভবতী নারী ও মুমূর্ষু রোগীরা।wস্থানীয় বাসিন্দারা কয়রার খবর -কে জানান, কাদার কারণে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ ভ্যান বা মোটরসাইকেলও গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। হঠাৎ কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। উপযুক্ত ও সময়মতো চিকিৎসার অভাবে সম্প্রতি একাধিক রোগী পথেই মারা গেছেন বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যাতায়াতের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে পরিবহন চালকদের বিরুদ্ধে। সুতিরখাল বা প্রধান সড়ক থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে ভ্যানচালকদের ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যা স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এছাড়া দূর্যোগের পূর্বাভাস বা সিগন্যাল দিলে রাতে ঘুম হারিয়ে যায় উপকূলের এই বাসিন্দাদের। জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে বা ভেঙে কখন সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে—সেই আতঙ্কেই কাটে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।

বাঁধ ও রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্থানীয় এক অধিবাসী কয়রার খবর -কে বলেন, "প্রতি বছরই শুনি কোটি কোটি টাকার বাজেট আসছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। ইউপি সদস্যরা বলেন এটা নাকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ, তাদের হাতে কিছু নেই। আর পাউবো বা জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন, ব্লকের কোনো স্থায়ী কাজ হচ্ছে না।"

অন্যদিকে সুন্দরবনের ওপর সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকার কারণে এলাকার মানুষের বিকল্প উপার্জনের পথও রুদ্ধ হয়ে গেছে। রোজগার বন্ধ থাকা এবং অবকাঠামোগত চরম অবহেলার কারণে দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন তারা। স্থানীয়দের আকুল আকুতি—বিলাসিতা নয়, অন্তত জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধে ব্লক বসিয়ে টেকসই সংস্কার এবং চলাচলের রাস্তাটিকে হাঁটার উপযোগী করে যেন তাদের জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। "সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।"

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00

সর্বশেষ

×