অনলাইন পিটিশনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে আন্তর্জাতিক ফুটবলাঙ্গন থেকে বহিষ্কারের দাবি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জুড়ে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলে এই বিতর্কিত পিটিশন অভিযান শুরু করা হয়।
'কয়রার খবর'-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা দলের একাধিক ম্যাচে রেফারিং সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বিশেষ করে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসিকে ফাউলের নির্দেশ না দেওয়া এবং মিশরের বিরুদ্ধে খেলায় বিতর্কিত রেফারিংয়ের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই অসন্তোষের জের ধরেই বিশ্বজুড়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে "Argentina Out" শিরোনামে এক বিশাল পিটিশন ক্যাম্পেইন চালু করা হয়। যেখানে মূল দাবি তোলা হয়—প্রতিটি দেশের জন্য খেলার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং কথিত পক্ষপাত দূর করতে আর্জেন্টিনাকে চিরতরে বহিষ্কার করা হোক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের তথ্যানুযায়ী, শুরুতে ৫০ লাখ স্বাক্ষরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই অনলাইন আন্দোলন শুরু হলেও অতি দ্রুত তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীর প্রায় ১৭০টিরও বেশি দেশ থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি (২৩,৩১৬,১০৮) ফুটবল অনুরাগী এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। অনলাইন পিটিশনের ইতিহাসে এটি অন্যতম রেকর্ড তৈরি করেছে, যা ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া ইতিহাসখ্যাত 'জাস্টিস ফর জর্জ ফ্লয়েড' পিটিশনের (১৯.৬ মিলিয়ন) স্বাক্ষরকেও ছাড়িয়ে যায়।
তবে ফিফা এই ধরনের অনফিশিয়াল বা অপ্রাতিষ্ঠানিক পিটিশনের ভিত্তিতে কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ফাইনাল ম্যাচ শেষে পিটিশনের আয়োজকরা তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করে যে, সংস্থাটি কোনো ব্যবস্থা না নিলেও মাঠের খেলায় স্পেনের জয় তাদের ক্ষোভের জবাব দিয়েছে।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে "কয়রার খবর" - এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
