রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়রার সন্তান ও রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে জড়িয়ে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়, আম্মারের কাঁধে থাকা বন্দুকটির লাইসেন্সধারী মালিক ছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মোহসিন রেজা। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিজ বাসভবনে মোহসিন রেজাকে গুলি করে হত্যা করেন আম্মার এবং পরে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে সম্প্রতি রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ছবিতে সালাহউদ্দিন আম্মারের কাঁধে যে বন্দুকটি দেখা যাচ্ছে, সেটি আসল অস্ত্র নয়; এটি একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যবহৃত খেলনা (প্রপ) বন্দুক। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ছবিটি ২০২৪ সালের আগস্টে নয়, একই বছরের ২৬ জুন রাজধানীর উত্তরায় 'বেইমান' নামে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে তোলা হয়েছিল।
তিনি কয়রার খবর-কে জানান, ওই সিনেমার শুটিং চলাকালে স্মৃতিচারণ হিসেবে ছবিটি তোলা হয়েছিল। পরে ছবির মূল ফাইলের মেটাডাটা যাচাই করেও দেখা যায়, সেটি ২৬ জুন বিকেলে ধারণ করা হয়েছে। একই শুটিং সেটের আরও কয়েকটি ছবিও মিলেছে, যা ছবিটির প্রকৃত সময় ও প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, ভাইরাল দাবিতে বলা হয় যে, ৫ আগস্ট জিএম মোহসিন রেজাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র অনুযায়ী সেদিন খুলনার কয়রা সদরে নিজ বাসভবনে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় জিএম মোহসিন রেজা নিহত হন। পরে তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে তাকে গুলি করে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ঘটনার সময় সালাহউদ্দিন আম্মার খুলনায় ছিলেন না। বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি ওই সময় রাজশাহীর তালাইমারি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরদিনও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত শোকরানা নামাজে তাকে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কয়রার খবর-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোহসিন রেজা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
এদিকে, রিউমার স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালাহউদ্দিন আম্মারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে। কিছু পোস্ট ও মন্তব্যে তার বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং মাথা কেটে নেওয়ার মতো হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব হুমকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে কয়রার খবর-এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের koyrarkhobor.com ভিজিট করুন।
